পাপের শাস্তি ও জবার প্রতিশোধ ( ২য় পর্ব )

0
139

১ম পর্বের পর ………

৪।জবার দাদার দূরদর্শিতা: জবার দাদা পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে যে সম্পদ পেয়েছিলেন তা দিয়ে এবং নিজস্ব পেনশনের টাকা দিয়ে অবসরের পরে দুই ছেলে কামড়ান ও তাহেরের জন্য দুটো আলাদা বিল্ডিং করেন। একটা বরাইগ্রামে  আরেকটা নাটোর সদরে কামরান ভিলা ও তাহের ভিলা নামে’। বাকি টাকা ব্যাংকে রেখে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে নাতি নাতনিদের বিয়ে দেওয়ার সময়  কাজে লাগব। এছাড়া আগে থেকেই জবার দাদার  কিছু ফসলি জমি  পুকুর ছিল পূর্বপুরুষ সূত্রে। সেসব জমিতে বর্গা চাষিরা তাদের  সুবিধা মত ফসল উৎপাদন করত।  ফসল  উৎপাদনের  পরে  জবাদেরকে তাদের ভাগের ফসল  দিয়ে যেত।  তার জন্য চাল তেলের মত ফসল তাদেরকে তেমন বাইরে থেকে কিনতে হতনা । আর তাহের ভিলা ভাড়া দেওয়া আছে ওখান থেকেও প্রতি মাসে যে  ভাড়া পান তা দিয়ে  সচ্ছল ভাবেই চলে জবাদের  যৌথ পরিবার ।

এই ঘটনা ঘটবার পরেই জবার দাদা আর ও রেগে গেলেন ছেলে কামরানের উপর এবং কামরান ভিলার নাম পালটে জবা ভিলা রাখেন ।এবং জবার নামে জবা ভিলার জমি উইল করে দেন। এ নিয়ে জবার দাদা দাদির মধ্যে খুব ঝগড়া লেগে যেত। এমনকি জবা যখন হোস্টেল বন্ধ হলে দাদা বাড়ী যেত তার সামনেই দুইজন ঝগড়া করা শুরু করে দিত। বড় হওয়ার পরেও জবা এগুলো দেখেছে।

দাদি বলতেন- আপনি এইটা কি করলেন? কামরান কে ঠকালেন’!  জবা মেয়ে মানুষ আজ’ না হোক কাল পরের সংসার করতে চলে যাবে যত ভাল ছাত্রী  হোক  না কেন।কিন্তু কামরান   নাটোরে আসবে । আবার নতুন সংসার শুরু করেছে। আবার ছেলেপুলে হবে ওরানাটোর এলে  কোথায় উঠবে?

জবার দাদা অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন তিনি বলতেন, শোন কামরানের মা তোমার ছেলে নিজেই ঢাকার মিরপুরে ডুপ্লেক্স বাড়ী করেছে। জবার যখন ১ বছর আমরা ওর বাড়ীতে বেড়াতেও গিয়েছিলাম ।

মনে নেই ? লায়লা খান কে বিয়ে করার পরে নাকি ওর  ধণী শ্বশুর ইস্কাটনে লায়লা খাঁন আর কামরানের নামে আলাদা আলাদা দুইটা ফ্লাট উপহার দিয়েছে। তোমার ছেলে নাকি এখন মিরপুরের বাড়ী ভাড়া দিয়ে ইস্কাটনের ফ্লাটেই থাকছে  তাহের বলল। তাই অযথা চিন্তা করে শরীর খারাপ করনা । এমনিতেই তোমার আবার হার্ট ও ফেটি লিভারের সমস্যা আছে । প্রতিদিন কত ওষুধ খেতে হয় । প্রতিমাসে ডাক্তার দেখাতে হয় ।

জবার দাদি বলে উঠেন- আপনার ও তো প্রতি মাসে ডায়বেটিকস এর জন্য ডাক্তার দেখাতে হয়।

দাদা হেসে বলেন এই টা তুমি ঠিক বলেছ ।

জবার দাদি বলে ওঠে- যাই বলেনা কেন আপনি কামরান কে ঠকাচ্ছেন ।

একথা শুনে দাদা আরো খেপে গিয়ে বলেন- বেশ করছি কামরান কে ঠকাচ্ছি। তোমার বাবার বাড়ী থেকে ও তো তুমি   জায়গা জমি পেয়েছ ভালই। তোমার আদরের ছেলেকে ওই জায়গা জমি দিয়ে দিলেই পার। যে ছেলের জন্য আমার মুখ পুড়েছে। জবার নানা নানীর কাছে গিয়ে মাফ চাইতে হয়েছে তাকে ঠকানই উচিত ।

জবার দাদি ও বলে ওঠে- তাহের তোকে ত তোর বাবা ঠকায়নি কামরান কে কিন্তু আমি ঠকাতে পারবনা । আমার বাপের বাড়ী থেকে যে জায়গা পেয়েছি আমি কামরানকে দিয়ে যাবও আপত্তি নেই ত?

তাহের চাচা বলত- না` আপত্তি নাই তুমি   যা ভাল মনে করও করতে পার ।

৫। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিচয়

লায়লা খান কে বিয়ে করার পরে বাবা কামাল ঊদ্দিন এক প্রকার বয়কট করেছে কামরান উদ্দিনকে । ছোট ভাই তাহের ও মায়ের সাথে প্রায় দিন ই ফোনে কথা হয়  কামরান  ও লায়লার। যদিও বাবা কখন ও কথা বলেনা। এজন্য মনে মনে কস্ট পায় কামরান। পরে কামরান ভিলা জবার নামে করে দিয়েছে শুনে মনে মনে ভীষণ ক্ষোভ জন্মাল কামরান উদ্দিনের ।

কিন্তু পরে নিজেই বিবেকের দংশনে ভাবল – জবা তো আমার নিজেরই মেয়ে আমি  মরে গেলে তো জবা ওয়ারিশ হিসেবে এগুলো পেতই। থাক জীবিত অবস্থায়ই পেয়ে গেল। জবার মা  হিসেবে জরি কখনই কোন সম্মান ভালবাসা পায়নি ।সত্যিই আত্মহত্যায় আমি আর পরোক্ষভাবে লায়লা প্ররোচনা দিয়েছিল বলেই  মা হারা হয়েছে মেয়েটা। ওর তো কোন দোষ নেই। মা মরা জবাকে তো দাদা চাচারাই দেখছে তারা যা ভাল মনে করে করুক।লায়লা সৎ মায়ের কাছে ভাল নাও থাকতেও পারে। আর লায়লার ছেলেমেয়ে হলে মিরপুরের বাড়িটা দরকার হয় ওদেরকে দিয়ে যাবও লায়লা তাহলে কিছু মনে  করবেনা। এছাড়া ইস্কাটনের ফ্লাট তো আছেই। দরকার হলে জবা যখন বড় হবে ওকে বিয়ে দেওয়ার আগে ওর নামে আলাদা একটা ফ্লাট কিনে দেব ।

মাঝে মাঝে মা ভাইকে কামরান বলে- জবা কি করে? ওকে দাও  একটু কথা বলি ওকে কতদিন দেখিনা ।

জবা বাবার সাথে ভিডিও কল এ কথা বলতে গিয়ে বিভিন্ন বায়না ধরত  – আব্বু তুমি  আমার জন্য ঢাকা থেকে ফ্রজেন ডল পাঠাবে । আমার বান্ধবী ঝুমার আব্বু আমেরিকা হতে ফ্রজেন  ডল পাঠিয়েছে। খুব সুন্দর পুতুল গুলো ।  ঝুমা নিজেই পুতুলগুলো নিয়ে খেলতে চায়। আমাকে বেশি ধরতে দেয়না।

জবার বাবা বলেছিলেন- মার জন্মদিনে ফ্রজেন ডল পেয়ে যাবে। আমি আমেরিকা থেকে অনলাইনে  কিনতে  চেষ্টা করব। কিন্তু  তোমার কিন্তু ঠিক করে পড়াশুনা করতে হবে।  মামনি এখন ক্লাস টুতে পরছ । রোল দুই । এরকম রোল এক দুইয়ের মধ্যে থাকতে হবে। তোমাকে পি এস সি পরীক্ষার আগেই আমি ঢাকার ভাল একটা আবাসিক স্কুল এ ভর্তি করিয়ে দিতে চাই। হোস্টেল যখন ছুটি থাকবে তুমি আমার এখানে ইস্কাটনে এসে কিছু দিন থাকবে। পরে দাদা বাড়ী নানা বাড়ীতে বেড়াতে নাটোরে চলে আসবে ।

জবা তার বাবার উপর খুব খুশী হয়েছিলো যখন ফ্রজেন ডলের সাথে খুব দামি  জামা, রঙ পেন্সিল ও চকলেট হাতে পেয়েছিল । এছাড়া নানা  দাদা বাড়ীর  সবাই জবাকে অনেক সুন্দর সুন্দর গিফট দিয়েছিল । ভিডিও কলে জন্মদিনের দিন কথা বলার সময়  জবার বাবা বলল- জবা গিফট কেমন হয়েছে ? খুব ভাল হয়েছে এতগুলো গিফট কিন্তু আমি একা দেইনি। তোমার একটা নতুন মা আছে লায়লা মা সে তোমাকে গিফট গুলো পাঠিয়েছে। কথা বলে তাকে একটা থ্যাংকস দেওয়া উচিত না ।  মামনি কথা বলবে? ক্লাস টুতে পরা জবা বলেছিল ওকে আব্বু কথা বলে থ্যাংকস দিব। জবা জিজ্ঞাসা করেছিল -সে কি সব সময় তোমার ওখানে থাকে? জবার বাবা বলেছিল- হে মা নাহলে কে আমাকে রান্না করে দেবে? তুমি যখন ঢাকায় আসবে তোমাকেও রান্না করে খাওয়াবে ।

প্রথমে দাদির  সাথে কথা বলছিল লায়লা ।পরে জবাকে ডাকল। দাদি বলল নাও তোমার  লায়লা মায়ের সাথে কথা বল ।

জবা প্রথমে সালাম দিল ।

উত্তরে সালাম ফিরিয়ে দিয়ে  লায়লা বললেন – আমাদের জবা ত অনেক বড় হয়ে গেছে । আর  ও  সুন্দর হয়ে গেছে । আমি তোমার আরো ছোটবেলার ফটো দেখেছি । তোমার আব্বু দেখিয়েছে  ।  শুভ জন্মদিন তোমাকে । অনেক অনেক বড় হও । তোমার গিফট গুলো পছন্দ হয়েছে তো?  আমি  অফিস হতে বের হয়ে পরশু তোমার জন্য  জামা, রঙ পেন্সিল ও চকলেট কিনেছি। তোমার আব্বু আমেরিকা হতে ফ্রযেন ডল আনিয়েছে।

জবা বলল -থ্যাংকস লায়লা মা ।

লায়লা বললেন – তুমি তোমার  তাহের চাচার সাথে যখন স্কুল বন্ধ হবে এখানে চলে আসও ।  খুব মজা হবে। আমরা সবাই মিলে বেড়াতে যাবও।এছাড়া তুমিতো কিছুদিন পরে ঢাকাতেই  পড়াশুনা করবে।

জবা বলল- আচ্ছা যাবও এখন আমি যাই আমার বান্ধবীরা চলে আসবে ।

লায়লা একথা শুনে বলল ওকে বাই ।

জবা ও বলল- বাই ।

এরকম  করে  জবার সাথে সৎ মা লায়লার চেনাজানা হয়ে গেল।  যদিও সামনাসামনি দেখা হল আর ও কয়কে  বছর  পরে ।

৬. বাবা ছেলের কথা

জবা যে বছর ক্লাস ফাইভে ওঠে সে বছর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে জবা ঢাকার নামকরা  কতগুলো স্কুল এ ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে টিকে যায় যে স্কুল গুলো এইচ এসসি পর্যন্ত ছিল ।

জবার চাচাত ভাইয়ের জন্ম হয় । জবা চাচাত ভাই কে কোলে নিয়ে খুব আদর করে বলেছিল এখন থেকে আমার খেলাধুলা করার জন্য আর একটা বন্ধু হল  । খুব ধুমধাম হয় আকিকার সময়।  ওই সময় জবার বাবা নাটোরে এসেছিল চাচাত ভাইয়ের জন্য গোল্ডের চেইন আংটি নিয়ে । জবার জন্য ও একটা গোল্ডের কানের রিং এনেছিল ।  গর্ভবতী থাকায় লায়লা আসেনি। জবা গোল্ডের রিং পরতে চাচ্ছিল দেখে দাদি বলল- জবা মনি তুমি ঢাকায় যাবার আগে আমি তোমার কান  ফুটো করে এই কানের রিং পরিয়ে দেব। এখন এইটা আমার কাছে থাকুক।

জবার বাবাকে দাদা কিছু বলেনি। বরং তখন থেকে জবার দাদা ছেলের সাথে একটু আধটু কথাবার্তা বলা শুরু করেছিল। জবার মঙ্গলের জন্যই যে দাদা জবার বাবার সাথে কথা বলা শুরু করেছিল তা বড় হয়ে জবা বুঝতে পারে। ঢাকায় গিয়ে পড়াশুনা করতে গেলে হোস্টেলে থাকলেও লোকাল অভিভাবক হিসেবে জবার বাবাকে অনেক সময়ই প্রয়োজন হতে পারে যখন তখন ঢাকা যাওয়া সম্ভব না। প্রতিদিনই দুপুরের সময়ে চাচা ওদের সাথে খেতে বসতে পারতেননা।  চাচি ও দেরি করে খেতেন  । রাতে ঘরের সবাই একত্রে খেতে বসতেন । সেই সুযোগে দাদা প্রতিদিনই দুপুরের খাবারের সময় ছেলে কামরান ও নাতনিকে বিভিন্ন  বিষয়ে  সাবধান করতেন ।  ছেলে কামরানকে দুপুরে খেতে বসে বলতেন – দেখ কামরান তুমি যত প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে  যাওনা কেন ছেলে হিসেবে তোমাকে  ভাল উপদেশ দেওয়া আমার কর্তব্য বলে মনে করি ।  জবাকে তুমি খুব প্রয়োজন  ছাড়া ইস্কাটনের বাসায় নিয়ে যাবেনা ।  ইস্কাটনের বাসা তুমি নতুন শ্বশুর বাড়ীর উপহার হিসেবে পেয়েছ ।  আর একান্তই যদি নিয়ে যাও যেদিন তোমার অফিস ছুটি থাকবে সেই সময়ে নিয়ে যাবে ।  তোমার নতুন বউ সে পরের বাড়ীর মেয়ে উপরে উপরে যতই জবাকে আদর করুক না কেন সৎ মেয়ের সব ধরনের দায়িত্ব নেওয়া তার পছন্দ নাও হতে পারে ।  সব জায়গায় এমনই হয় সৎ ছেলে মেয়েকে খুব কম মা বাবা ই আপন করে নিতে পারে  । এছাড়া তোমার নতুন শ্বশুর শাশুড়ি শালা শালি আছে বলে শুনেছি  । তারাও জবাকে ভাল ভাবে গ্রহণ করতে নাও পারে ।  আবার তোমার নতুন বউয়ের বাচ্চা হবে শুনেছি , কেউ জবাকে অনাহুত অপাংতেয় ভেবে অবহেলা করুক তা আমরা কেউ চাইনা ।  তুমিও নিশ্চয়ই চাও না তোমার মেয়েকে কেউ অবহেলা করুক  । তোমার যদি জবার পড়াশুনার খরচ দিতে সমস্যা থাকে আমি জবাকে পড়াব ।  ্তোমার টাকা পয়সা দিতে হবেনা  । আবার দেখ জবার পড়ার জন্য টাকা পয়সা দিচ্ছ বলে তোমার নতুন বউ আবার তোমার সাথে  অশান্তি শুরু না করে ।  জবার কোন ক্ষতি না করে ।  যেমন জবার মায়ের বেলায় করেছিল ।  খুব কুটিল মহিলা তোমার ব্রেন ওয়াশ করে নিজে ভাল থেকে তোমাকে ফাঁসিয়ে দিল । তুমি নিজেও তো চোর ডাকাতের মত হাজত বাস করে এলে।  আর ভবিষ্যতে যাতে কোন বিপদে না পরও এজন্য সাবধান করছি ।  যাই ঘটুক  না কেন তুমি আমার ছেলে তোমার, জবার ক্ষতি মানে আমার ক্ষতি ।  কামরান নিজেকে সামলিয়ে বলে উঠল – না বাবা আমিও চাইনা জবাকে কেউ অপাংতেয় ভাবুক ।  ওর কোন ক্ষতি না হয়  তা  আমি দেখব  । জবার পড়াশুনার খরচ আমি দিতে পারবও কোন সমস্যা হবেনা ।  লায়লা খুব ধণী ফামিলির মেয়ে ।  নিজেও চাকরি করছে আমার পেশাতেই  । অনেক টাকা আয় করে ।  মনে হয়না ও  কোন আপত্তি করবে ।  আর আপত্তি করলেও আমি শুনব কেন ? আপনি যেভাবে বললেন আমি সেভাবেই চলব ।

দাদি এবার জবার পক্ষ নিয়ে বলল- জবা খূব মিশুক লক্ষ্মী মেয়ে ।তার উপর খুব ভাল  ছাত্রী ।  আল্লাহর রহমতে জবা পড়াশুনা করে অনেক বড় হবে  । এখনি সে ডাক্তার হতে চায় এই পরিবারের সবচেয়ে প্রথম নাতি  । মা না থাকলেও আমরা কেউ ওকে মায়ের অভাব বুঝতে দেইনি ।  তুমি এতদিন না আসলেও  ঠিক মত টাকা পয়সা দিতে  না পারলেও জবার কোন  সমস্যা হয়নি  । খুব ভাল ভাবেই আমরা ওকে মানুষ করেছি  ।  মসজিদের  হুজুরের কাছে গিয়ে এত অল্প বয়সে  বান্ধবীদের সাথে  জবা কোরান  শরিফ খতম দিয়েছে নামায ও পড়তে পারে ।  আমার সাথে  নামাজ   পড়ে  ।

তাহের ,তাহেরের বউ  ওকে  খুব আদর করে ।  এমনকি ওর আপন মামারা এত কিছু ঘটার পর ও প্রতি মাসে এসে দুই তিন দিনের জন্য নানা বাড়ী নিয়ে যায় ।  নানা নানি আবার অনেক খাবার দাবার  পাঠীয়ে দেয় জবার জন্য  । বুঝতেই পারিস শুধুমাত্র ঢাকায় পড়ালেখা ভাল হয় বলে আমরা ওকে ঢাকায় পাঠাচ্ছি । নইলে কখনই ঢাকায় পাঠাতে রাজি হতামনা ।  তোর নতুন বউ লায়লা কিন্তু খুব চালাক মেয়ে ।  তুই ওকে এখনো ভালো করে চিন তে পারিসনি  । তাই সাবধান থাকিস  । জবাকে কখন ই ওর কাছে একা রেখে যাবিনা ।  এছাড়া ওর স্কুল হোস্টেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই হোস্টেল থেকে আমাদের এখাণে ফোনে আসবে ।  তাহের গিয়ে নিয়ে আসবে  । এমনকি ওর মামারা যদি ফ্রি থাকে ওর মামারা গিয়েও নিয়ে আসতে পারবে  । এমনি করে শুক্র বার চলে আসল  ।

জবার ঢাকায় চলে যাবার সময় চলে আসল ।  চলে আসার আগে বুধবারে গিয়ে জবা নানা নানি মামাদের সাথে দেখা করে বিদায় নিয়ে আসল  । নানা,  নানি ও মামারা জবার হোস্টেল এর এড্রেস ও ফোন নাম্বার’ রেখে দিল তাহের চাচার কাছ থেকে  ফোন করে জেনে নিলো ।

জবাকে বিদায় দেওয়ার আগে খুব কান্নাকাটি করছিল নানা নাণী । মামারা বলল – জবা একটা শুভ কাজে ঢাকায় যাচ্ছে । পড়াশুনা করে মানুষের মত মানুষ হতে  । আপনারা কান্না কাটি করলে ওর মন খারাপ হয়ে  যাবে । আর চিন্তা করেন কেন ? ওত আর ওর সৎ মায়ের কাছে থাকছেনা ।  হস্টেলে থাকছে  । আমাদের কাছে এড্রেস ফোন নাম্বার আছেই  । দরকার হলে আপনাদের কে ঢাকাই নিয়ে গিয়ে জবার সাথে দেখা করিয়ে নিয়ে আসব  । আর স্কুল হোস্টেল যখন ঈদ অথবা আম কাঁঠালের জন্য বন্ধ থাকবে তখন তো ও নাটোরেই চলে আসবে ।

নানা বিদায়ের আগে জবার হাতে দুই হাজার টাকা দিয়ে বলল – নানু তোমার যখন হস্টেলে বসে কিছু খেতে ইচ্ছা করবে বুয়াদের দিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনে খেও ।  এই টাকাটা তোমার জামা কাপড়ের ব্যগ এ রেখে দিও  তালা দিয়ে ।  নাণী ,মামারা আরও বলল-তোমার লায়লা মায়ের বাড়ীতে যেওনা । কারণ ওদের বাসায় সবাই খুব   বিজি থাকে ।  তোমার ওই বাসাই গেলে একা একা সময় কাটাতে হবে  । যেদিন তোমার বাবার ছুটি থাকে সেইদিন যেতে পার ।

এর মধ্যে জবার দাদি নানা বাড়ি থেকে আসার পরে দাদি জবার কান   ফুটো করে দিল।  বলল কি দাদু খুব ব্যথা লেগেছে  । জবা বলল- হুম খুব ব্যথা লেগেছে ।  দাদি বলল- কিন্তু তোমাকে তো  খুব ভাল লাগছে । যখন গোল্ডের রিং টা পরবে আর ভাল লাগবে ।  এখন তো সুতার রিং পরে আছি কখন রিং পরব আমি ? -জিজ্ঞাসা করল জবা । জবার দাদি বলল এক সপ্তাহ পরে তোমার কানে রিং পরান যাবে ।  আমি তোমার তাহের চাচ্চুর সাথে ঢাকায় গিয়ে নিজ হাতে গোল্ডের  রিং পরিয়ে দিয়ে আসব  । এছাড়া আমি আর তোমার দাদু মিলে আরেকটা গোল্ডের রিং বানিয়ে রাখব ।  তুমি যখন ছুটি তে গ্রামে আসবে,  তখন ওই রিং টা পরবে  । এরপরে শুক্রবারে খুব সকালে  দাদা দাদি চাচা চাচির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জবা বাবার সাথে ঢাকায় আসার জন্য রওনা হল ।

অনেক খাবার দাবার রান্না করে দিয়েছে দাদি । নতুন বউ লায়লার জন্য ও আলাদা করে খাবার দাবার রান্না করে পাঠিয়েছে ।

৭. ঢাকার হোস্টেল,জীবন ও নিষ্ঠুর জগতকে চেনা

ঢাকার নাম করা সরকারি ভাল স্কুল গুলোতে জবা চান্স পেলেও আবাসিক সুবিধা না থাকায় জবার বাবা কেম্ব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করে দিলেন । খরচ একটু বেশি হলেও একটা মাত্র মেয়ের জন্য না হয় খরচ হলই’ । আর্থিক সামর্থ্য যখন আছে মেয়ের জন্য একটু খরচ হলই । মেয়ে বড় হয়ে তার মায়ের ওপর যে অবিচার হয়েছে তা জেনে যাবেই ।  তখন যাতে বাবা আর সৎ মাকে তীব্র ঘৃণা না করে অথবা গ্রামের লোকেরা যাতে মেয়ের কোন খোজ খবর’ নেয়না নতুন বিয়ে করে ওই বউ বাচ্চার পিছনেই টাকা পয়সা খরচ করছে এই বলে নিন্দা না করতে পারে তাই নিজের ইমেজ রক্ষা করার জন্য ও কামরান উদ্দিন মেয়ের পিছনে টাকা খরচ করা শুরু করলেন।  হোস্টেলে প্রথম দিন বাবা ভর্তি করিয়ে দিয়ে বিদায় নেওয়ার সময় বললেন – মামনি তুমি এখন বড় হচ্ছ ।  এখানে অনেক মেয়েরা তোমার মত হস্টেলে থেকে পড়াশুনা করবে  । তুমি সবার সাথে মিলে মিশে চলবে ।  ঝগড়া করবেনা ।  আর প্রতিদিন  ঠিক মত পড়াশুনা করবে।  আমি কিন্তু  তোমার টিচারদের ফোন নাম্বার নিয়ে যাচ্ছি  । ওদেরকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করব তুমি ঠিকমত পড়াশুনা করছ কিনা।  আর প্রতি সপ্তাহে শুক্র , শনি বার হোস্টেল এর মেয়েরা যাদের বাসা ঢাকার মধ্যে তারা একদিন বাসায় গিয়ে থাকতে পারবে।  আমি ও তোমার লায়লা মা এসে মাঝে মাঝে তোমাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবও  । আমার অফিস  ওই সময় বন্ধ থাকে।তোমার লায়লা মায়ের অফিস ও বন্ধ থাকে  । তোমাকে নিয়ে আমরা ঘুরব  । এছাড়া তোমার দাদা, দাদি ,চাচা মামারা প্রতি সপ্তাহে এসে তোমার সাথে দেখা করে যাবে  । জবা প্রথম দিন একটু ভয় পায় হস্টেলে  একদম নতুন পরিবেশে এসে  । কিন্তু এখানকার স্কুল ও হস্টেলের টিচারদের আন্তরিক ব্যবহারে হোস্টেল এর পরিবেশের সাথে সহজে মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি জবার  । এছাড়া জবার দুইজন মেয়ের সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হয় যে বন্ধুত্ব এইচ এস সি পর্যন্ত থাকে ।  মাঝখানে ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় যখন জবার দুই সৎ ভাই রনি ও জনির জন্ম হল জবার বাবা হস্টেলে বলে জবাকে ভাইদের দেখাতে নিয়ে যায় ইস্কাটনের বাসায় ।  সেই দিন রনি ও জনির জন্য খুব বড় অনুষ্ঠান হচ্ছিল রনি ও জনিকে দেখে জবা ওদেরকে কোলে নিতে চাচ্ছিল ।

বাবার দিকে তাকিয়ে বলে- আব্বু আমি ভাইদের একটু কোলে নেই একথা শুনে লায়লার মা ও বোন একত্রে বলে উঠল- না না । তুমি নিজেই এখন ও অনেক ছোট  । বড় হয়ে কোলে নিয়ো। এদিকে জবার বাবা বলল- মামনি তুমি একটু বস আমি টয়লেট থেকে আসছি।  জবা বলল- ওকে আব্বু।  কামরান উদ্দিন ওই ঘর হতে বের হতেই লায়লার মা আর লায়লা রাগি চেহারায় জবার কান ধরে টান দিয়ে বলল- ইস শখ কত ! উড়ে এসে জুড়ে বসা সতিনের ঘরের মেয়ে । আমার নাতিদের কোলে নেবে বলে বায়না ধরেছে ।  মায়ের মত এই মেয়ে ও আমাদের জালাতন করে মারবে ।  আর তোমার একক আদর পাওয়ার দিন শেষ এখন আদর পাবে রনি জনি ।  লায়লার ছোট   বোন জুলিয়া বলল- মা আপু তোমরা কি করছ দুলাভাই চলে আসলে কিন্তু মহা কেলেঙ্কারি হবে  । লায়লার মা রূপ পালটে জবার দিকে হাসি হাসি মুখ করে বলল- জবা নানু ভাই  । আমি হলাম তোমার একটা নানু আর ওই টা তোমার জুলিয়া আণটি ।  নানুরা নাতি নাতনিদের সাথে সব সময় এরকম মজা করে কান টানে  । আমি তোমার সাথে মজা করেছি ।  তুমি আবার কিছু মনে করনা ।  জবার লায়লা মা ও রূপ পালটে জবাকে বলেছিল – মামনি তুমি খাটে এসে বস  । তারপরে রনি জনিকে কোলে নিতে পারবে  । আমি পেছন থেকে তোমার হাত ধরে রাখব ।  ওরা আর তোমার হাত হতে পরে যাবেনা  । আর এইসব কথা আব্বুকে বলে দিওনা ।  পরে  রনি জনিকে কোলে নিয়ে খুব আনন্দ পেয়েছিল আর বাবাকে কিছু বলেনি  । যদিও মনে মনে খুব কস্ট পেয়েছিল তাদের ব্যবহারে । জবার লায়লা মা যে তাকে লোক দেখান আদর করে সেই বিষয়টা বুঝতে তার বেশিদিন লাগেনি ।  জবা এই  কথা বড় হয়ে  দাদা ,  দাদী ,  চাচাকে বলে দিয়েছিল ।

ওই দিন রাতের বেলাই জবাকে ,জবার বাবা আবার হস্টেলে পৌছিয়ে দিয়ে যায়  । এভাবে ছুটির দিনগুলোতে জবার বাবা ও লায়লা মা এসে ওদের বাসায় নিয়ে যেত ।  সকালে গিয়ে সন্ধ্যা হবার আগেই হস্টেলে ফিরত  ।

কিন্তু জবা ছোটবেলায় কখনই ইস্কাটনের বাসায় রাতে থাকেনি ।  কারণ মামারা এমনকি দাদা দাদি ও চাইতেননা জবা ওই বাসায় গিয়ে রাতে থাকুক  । রায়হান সাহেব ও তাই মেয়েকে কখন  ও রাতে থাকার ব্যপারে   জোর করতেননা ।  হস্টেলে বেশ ভালভাবেই সময় কাটতে থাকল ।

লিপি আর নিপা ছিল জবার হোস্টেল লাইফের বেস্ট ফ্রেন্ড । লিপি নিপার সাথে জবার অনেক মিল ও ছিল  । ওদের কারও আপন মা ছিলনা ।  ওদের বাবা আবার বিয়ে করেছিল ।  কিন্তু ছাত্রী হিসেবে ওরা বেশ ভাল ছিল  । জবার মতই লিপিদের বাসা ঢাকাতেই ছিল ।  তবে নিপাদের বাসা গাজীপুরে ছিল  । বেশ আনন্দেই সময় কাটছিল  । জবার পি এস সি, জে এস সি , এস এস সি এবং এইচ এস সি সব  পরীক্ষাতেই খুব ভাল রেজালট করে ।  লিপি নিপারাও ভাল রেজালট করে  ।  সব টিচাররাও সব সময় জবার প্রশংসা করত ।

তবে জবা যখন হতে  ইস্কাটনের বাসায় যাওয়া আসা শুরু করল  এবং জবার সৎ নানি ও সৎ মায়ের হাতের খাবার  খাওয়া শুরু করল তখন হতে প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখা শুরু করে  । ঘুমের মধ্যে আবোল তাবোল বকতে শুরু করল  । প্রতি রাতে লিপি অথবা নিপা ওকে  ঘুম হতে জাগিয়ে বলত-  জবা কী হয়েছে ? এমন করছিস কেন?

জবা ঘুম থেকে উঠে বলত- না স্বপ্ন দেখেছিলাম ।  পাহাড়  থেকে আমাকে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে  ।  কেউ আমাকে  পাহাড় হতে পড়ে  যাওয়া হতে   বাঁচাচ্ছে  ।

নিপা লিপি বলে- কারা ফেলে দিচ্ছে দেখলি? আর কে  বাঁচাচ্ছে?

জবা বলে- চেহারা  স্পষ্ট নয়। মুখগুলো  মানুষের ছায়ার মত ।

নিপা লিপি বলে – হয়েছে স্বপ্ন স্বপ্ন ই হয়। ওগুলো কিছুনা।  ঘুমা ।

এরকম করে  দুই বছর কাটে  ক্লাস সেভেনে পড়ার সময়  ঈদের  লম্বা ছুটিতে  জবা, জবার  বাবা, সৎ মা দুই ভাইকে নিয়ে  নাটোরে বেড়াতে  গিয়ে জবা দাদা দাদির কাছেই ছোটবেলার মতই ঘুমাতে গেল। কিন্তু প্রতি রাতে  এরকম দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুমের মধ্যে আবোল তাবোল বকা শুরু করল  । জবার কাছ থেকে জবার দুঃস্বপ্নের কথা জেনে দাদি মনে মনে ঠিক করল তার নিজের বাপের বাড়ীর পাশে এক কামেল হুজুর আছেন ।  যার কাছে গিয়ে অনেক মানুষ বিভিন্ন উপকার পেয়েছে।  ওনার তাবিজ , পানিপড়া নিতে অনেকদূর থেকে মানুষ জন আসে ।  তাকে একবার জবাকে  দেখিয়ে আনবে।বাসার  কাউকে বলা যাবেনা। তাবিজ কবজে বাসার কারও বিশ্বাস নেই  । আগে থেকে হুজুরের  সাথে কথা বলে সময় ঠিক করে নিল। সে কাউকে কিছু না বলে বাপের বাড়ীতে জবাকে একটু বেড়াতে নিয়ে যাই বলে  সকালেই রওনা হল।

জবার বাবার দুই বিয়ের কথা সৎ মায়ের কথা আগেই বলে রেখেছিল দাদি।

সব ঘটনা শুনে হুজুর জবার দাদি কে বললেন – জবাকে সব সময় ওর সৎ মায়ের কাছ থেকে দুরে রাখার চেষ্টা করবেন।ও যাতে ইস্কাটনের বাসায় কম যায়। এখন আমি ওকে একটা তাবিজ আর পানি পড়া দিয়ে দিচ্ছি।আপনি তাবিজ টা কোমরের নিচে পরতে বলবেন।যাতে তাবিজ কেউ দেখতে না পায়। জবা তুমি এব্যাপারে কাউকে কিছু বলনা। তোমার আব্বুকেও না।দাদিকে হুজুর বললেন- ঘনিষ্ঠ কেউ ছাড়া এ ব্যপারে কাঊকে জানতে দেওয়া যাবেনা। যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তাদেরকে বুঝতেও দেওয়া যাবেনা । জবা তখন কিছুটা বড় হয়েছে কিছুটা বুঝতে শিখেছে। নানা, নানি , মামা এবং হস্টেলের বান্ধবীদের কাছ থেকে জেনেছে যতই উপর উপর  মানুষকে  দেখান আদর করুক না কেন বেশিরভাগ সৎ মায়েরা আসলে আপন মায়ের মত ভাল হয়না  সেইদিন ওর মনে হল বান্ধবীরা ঠিকই বলে জবা বাসায় এসে কাউকে এব্যাপারে কিছু বললনা। কিন্তু দাদি গোপনে দাদাকে ব্যপারটা জানিয়ে রাখল  । দাদা সব শুনে দাদিকে বলল – আমি তুকতাক তাবিজে বিশ্বাস না করলেও হুজুর ঠিক ই বলেছে ।  এজন্যই  জবার নামে এই বাড়ী টা লিখে দিয়েছি।  আমি জানি ভবিষ্যতে জবাকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে ।  ওর বাবা যতই সম্পদ করুকনা কেন সব কিছু রনি আর জনি কেই দিয়ে যেতে হতে পারে কামরানকে।সেক্ষেত্রে যাতে এই মেয়েটাকে রাস্তায় থাকতে না হয় এজন্য একটা ব্যবস্থা করে রেখেছি  । এতদিন পরে দাদি ও দাদার পক্ষ নিয়ে বলল- ঠিকই করেছেন আপনি।আমিই মানুষ  চিনতে ভুল করেছিলাম ।

জবাকে দেখে দাদা বললেন – জবা তুমি এখন  বড় হয়েছ। অনেক কিছু বুঝতে শিখেছ। এই ব্যপারগুলো কাউকে বলনা ।  তোমার আব্বুকেও না।আর লায়লা মায়ের সাথে আগের মত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলবে।  ইস্কাটনের বাসায় ওরা বেড়াতে নিয়ে যেতে চাইলে রাতে থাকতে বললে থাকবেনা। খুব জোরাজোরি করলে যেই দিন তোমার আব্বু বাসায় থাকে সেই দিন সকালে গিয়ে বিকেলের মধ্যে চলে আসবে  । সব সময় আব্বুর পাশে পাশে থাকবে। জবা দাদা দাদির কথা রেখেছিল কাউকে এসব ব্যপারে কিছু বলেনি  । অন্যদিকে জবাও আর রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে রাতে জেগে উঠতনা আশ্চর্যজনক ভাবে।

দাদা দাদি শুনে খুব খুশি হয়েছিল। জবার দাদা দাদি জবাকে একটা মোবাইল ফোন গিফট করে আসার সময় বলেছিল এই মোবাইলের মাধ্যমে সব সময় আমাদের সবার সাথে যোগাযোগ করবে। আর তুমি বুদ্ধিমান মেয়ে কখন ও এমন কিছু করবেনা যাতে আমাদের পরিবারের বদনাম হয়  । পড়াশুনা করে  তোমাকে অনেক বড় হতে হবে । জবার হোস্টেল খুলে গেলে জবা আবার ও পড়াশুনা নিয়ে বিজি হয়ে গেল  । পড়াশুনা নিয়ে  বিজি থাকলে জবার কিছু মনে থাকেনা।
পড়তে সে খুব ভালবাসে।এরপর থেকে জবার বাবা ও সৎ মা বন্ধের সময় ফোন করে ইস্কাটনের বাসায় আসতে বললে জবা বলে দিত- আব্বু লায়লা মাকে নিয়ে রনি ,জনি কে নিয়ে তোমরা আমার হস্টেলে আস  । স্কুল বন্ধের দিনে আমরা এখানেই গল্প করব । কোন ও বার্গার শপে বসে কিছু খেয়ে নিব  । আমার জার্নি করে ওই বাসায় যেতে ভাল লাগেনা  । জবার বাবা মেয়ে আসেনা দেখে এরপরে লায়লা রনি ও জনিকে নিয়েই ওর স্কুল বন্ধের দিন চলে আসত ।

লেখা চলমান…………………………

জবা লেখিকার একটি কাল্পনিক চরিত্র।
ফারজানা শারমিন
সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, কবি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here